রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল কমনওয়েল নারীবিষয়ক মন্ত্রীদের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথ নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা / ছবি: বাসস
নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি নেটওয়ার্ক বা মোর্চা গড়ে তোলা হবে। এতে বিশ্ববাজারে পণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা গড়ে উঠবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু হওয়া কমনওয়েলথ নারীবিষয়ক মন্ত্রীদের দশম সম্মেলনপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা জানানোর উদ্দেশ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কমনওয়েলথ সচিবালয় এবং বাংলাদেশের তথ্য অধিদপ্তর।
বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দশম কমনওয়েলথ নারীবিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের ওই বৈঠক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত করতে দেশের ভেতরে ও বাইরে সর্বত্র সবাইকে সোচ্চার হওয়ার জন্য কমনওয়েলথ দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অর্জনে গণতান্ত্রিক বিশ্বে একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারপ্রধান, সংসদ নেতা, সংসদ উপনেতা, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদের স্পিকার—সবাই নারী।’
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, কমনওয়েলথের মহাসচিব কমলেশ শর্মা, ঘানার মানবসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জেনিফার ওয়েবস্টার এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তরিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উদ্বোধনের আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ জানান, কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪টি দেশের মধ্যে ৩০টি দেশ তিন দিনের এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি তিন বছর পর পর বিভিন্ন দেশে এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘উইমেনস লিডারশিপ ফর এন্টারপ্রাইজ’।
এ সময় কমনওয়েলথের মহাসচিব কমলেশ শর্মা বলেন, জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। ২০১৫ সালের পরে এমডিজির নতুন উন্নয়ন কর্মকৌশলে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যও এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কমলেশ শর্মা বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। ব্র্যাকের সংবাদ সম্মেলন: গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে ব্র্যাক এবং কমনওয়েলথ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আরেকটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে জানানো হয়েছে, গত তিন দিন কমনওয়েলথভুক্ত ১৭টি দেশের প্রায় শতাধিক বেসরকারি প্রতিনিধির সমন্বয়ে পার্টনার ফোরামের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে নারী মন্ত্রীদের সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য একটি সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাকের পরিচালক (জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম) শিপা হাফিজা বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের বিকাশের ক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যা সমাধানের জন্য এসব সুপারিশ করা হয়েছে।(The Daily Prothom Alo / 18 June)
সাজেদুল হক: রাজনীতি কখনও কখনও একেবারেই সরল। স্বল্পসময়ের জন্য হলেও ফিরে আসে সাত অনুচ্ছেদ। প্রমাণ হয় জনগণই সব ক্ষমতার মালিক। চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের সেই ক্ষমতার আরও একবার প্রয়োগ করলেন। সংঘাত, সংঘর্ষ নয় ব্যালট বাক্সের মাধ্যমেই জবাব দিলেন তারা। রাজনীতি যখন সংঘাতময় তারা আস্থা স্থাপন করলেন ব্যালট বাক্সের ওপরই। বহু আগে প্রেসিডেন্ট জেমস বুকানন যে বাক্সের গুরুত্বের কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘ব্যালট বাক্সই হচ্ছে মুক্ত মানুষের বিরোধ নিরসনে সবচেয়ে কার্যকর মধ্যস্থতাকারী।’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিক্ততার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। দুই নেত্রীর তীব্র লড়াই যে তিক্ততার ঝাঁজ বাড়িয়েছে। তবে এ রাজনীতি একেবারে নতুন মোড় নেয় ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। যখন শাহবাগে শুরু হয় নতুন অভ্যুত্থান। যে অভ্যুত্থানের শুরুর দিকে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্র একটাই। ’৭১-এর রেসকোর্স যেন ফিরে এসেছিল শাহবাগে। বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতীয় মিডিয়াতেও এমনটাই বলা হচ্ছিল। ঘোষণা দেয়া হলো দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের। শাহবাগ সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলো ব্লগার রাজীব ওরফে থাবা বাবার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর। প্রধানমন্ত্রী ছুটে গেলেন তার বাসায়। জাতীয় বীরের মর্যাদা দেয়া হলো তাকে। তবে বসে ছিল না ভিন্নমতের মিডিয়া। পত্রিকায় প্রধান শিরোনামে খবর বেরুলো নিহত রাজীব ছিলেন প্রচণ্ড ধর্মবিদ্বেষী। নিজ ব্লগে আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর বিরুদ্ধে লিখতেন তিনি। একপর্যায়ে মঞ্চে আবির্ভূত হন সর্বজনশ্রদ্ধেয় আলেম আল্লামা আহমদ শফী। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন করে হেফাজতে ইসলাম। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর রাজপথে সহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলে জামায়াত-শিবির। কিন্তু তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে গুলির। যে গুলিতে প্রাণ হারান দেড় শতাধিক মানুষ। জামায়াত-শিবিরের সহিংস হামলায় কয়েক পুলিশ সদস্যও মারা যান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো পরিণত হয় ট্রিগার হ্যাপি বাহিনীতে। বিরোধী দলের কর্মসূচিতে গুলি চালানোই পরিণত হয় তাদের প্রধান কাজে। মে’র প্রথম সপ্তাহে আবার ঢাকায় আসে হেফাজত। ১৩ দফা নির্দলীয় দাবি তাদের। যে দাবির অনেকগুলো মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। এর আগেই বন্ধ করে দেয়া হয় আলোচিত দৈনিক আমার দেশ। গ্রেপ্তার করা হয় পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে। ৫ই মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। দিনভার চলে সংঘর্ষ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্লাইমেক্স। বন্ধ করে দেয়া হয় দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সুইচ। রাতে শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়া হেফাজতের কর্মীদের ওপর অভিযান চালায় বিজিবি, র্যাব, পুলিশের ১০ হাজার সদস্য। ফ্লাশ আউট করে দেয় হেফাজতে ইসলামকে। যে অভিযানে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে নানা মুুনির নানা মত দিতে থাকেন। এরপর পুরো পরিস্থিতি হয়ে যায় শান্ত। নেমে আসে কবরের নিস্তব্ধতা। ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া বিএনপিও ঘরে ফিরে যায়। এখন চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর প্রশ্ন উঠেছে হেফাজতের কর্মীদের দীর্ঘশ্বাস কি জড়ো হয়েছিল সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও খুলনায়। অনেক পয়েন্ট থাকতে পারে তবে এটা শতভাগ নিশ্চিত আওয়ামী লীগবিরোধী সব শক্তির ঐক্যই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের প্রধান কারণ। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় হেভিওয়েট প্রার্থী হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা নকআউট হয়েছেন নির্বাচনে। এটা সত্য, প্রতিবাদের সুযোগ না পাওয়া জনতা তাদের জবাব দিয়েছেন ব্যালটের মাধ্যমে। যে ব্যালট বিপ্লব আসলে আগামী নির্বাচনকে আরও জটিল করে তুলবে। কেউ কেউ বলছেন, এ নির্বাচন বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের জন্য এক ধরনের ফাঁদ। মূলত বিএনপিকে প্রলুব্ধ করা হয়েছে এ নির্বাচনের মাধ্যমে। দার্শনিক হেগেলের বিখ্যাত উক্তি, ‘বুদ্ধিমানরা ইতিহাসের সঙ্গে যায়, নির্বোধকে ইতিহাস টেনে নেয়।’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কে বুদ্ধিমান আর কে বোকা তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এর জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। (The Daily Manabjamin / 17 June)
গীতাঞ্জলি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ বিষয়ে ৬ মে ১৯১৩ তারিখে লন্ডন থেকে রবীন্দ্রনাথ ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখেছিলেন, ‘গীতাঞ্জলির ইংরেজি তর্জ্জমার কথা লিখেছিস্। ওটা যে কেমন করে লিখ্লুম এবং কেমন করে লোকের এত ভাল লেগে গেল, সে কথা আমি আজ পর্যন্ত ভেবেই পেলুম না। আমি যে ইংরেজি লিখেত পারিনে এ কথাটা এমনি সাদা যে এ সম্বন্ধে লজ্জা করবার মত অভিমানটুকুও আমার কোনোদিন ছিল না। যদি আমাকে কেউ চা খাবার নিমন্ত্রণ করে ইংরেজিতে চিঠি লিখ্ত তাহলে তার জবাব দিতে আমার ভরসা হত না...।’
গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘ইংরেজি গীতাঞ্জলি: রচনা ও অভ্যর্থনা’ বিষয়ে স্মারক বক্তৃতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথের লেখাটি উদ্ধৃত করেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির শতবর্ষে ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৃতীয় স্মারক বক্তৃতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাঙালিসমগ্র জাদুঘর।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আবৃত্তি করেন কেয়া চৌধুরী। অধ্যাপক আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাঙালিসমগ্র জাদুঘরের নির্বাহী পরিচালক তারিক রহমান। সঞ্চালনা করেন নীরু শামসুন্নাহার।
স্মারক বক্তৃতায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন লেখা এবং রবীন্দ্রনাথের ওপর বিভিন্ন সময়ে লেখা প্রবন্ধ ও গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বক্তৃতার একপর্যায়ে বলেন, গীতাঞ্জলি শুধু রবীন্দ্রনাথকে নয়, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সারা বিশ্বে পরিচিত করেছে, ভারতবর্ষ ও এশিয়ার জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে, সে-কথা সন্দেহাতীতভাবে সত্য। তিনি আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে গীতাঞ্জলির নিত্যনতুন ইংরেজি অনুবাদ করছেন কবি ও বিদ্বানেরা। এক শ বছর আগের ভাষা ও ভঙ্গি কারও কারও কাছে সেকেলে মনে হয়। কেউ কেউ ভাবেন, রবীন্দ্রনাথ নিজের লেখার প্রতি সুবিচার করেননি—স্বয়ং রবীন্দ্রনাথেরই তা মনে হয়েছিল একসময়। তবু ইংরেজি গীতাঞ্জলির একধরনের অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ আছে—রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠস্বর আমরা এতে শুনতে পাই। আধুনিক অনুবাদ ইংরেজি ভাষার দিক দিয়ে এবং কাব্যসৌন্দর্যের দিক দিয়ে যদি রবীন্দ্রনাথের অনুবাদকে ছাড়িয়েও যায়, তবু আমাদের বারবার করে রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলির কাছেই ফিরে আসতে হবে। (The Daily Prothom Alo / 15 June)
চার সিটি কর্পোরেশনে ভোটের ফল মেনে নিয়ে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের বিশৃংখলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
Chief Election Commissioner Kazi Rakibuddin Ahmad speaks at a dialogue at the Election Commission office on Thursday. Photo: bdnews24.com/ Dhaka, Sept 13, 2012
শনিবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে দিনভর ভোট গ্রহণের পর ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
প্রার্থী, ভোটারসহ সবার প্রতি সিইসি বলেন, “জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন। নির্বাচন পরবর্তীতে শান্তিশৃংখলা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।”
ভোটের ফল ঘোষণার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচনী এলাকায় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা টহলে থাকবেন বলে জানান সিইসি।
বড় কোনো গোলোযোগ ছাড়াই সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চার সিটিতে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান কাজী রকিব।
পাঁচ সদস্যের বর্তমান ইসির অধীনে এটিই বড় নির্বাচন। তাদের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আগের কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করে আসা বিএনপি এই চার সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ায় এ নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয় টান টান উত্তেজন।
সিইসি বলেন, “প্রতিটি নির্বাচনই আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং। এবারের মতো আগামীতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখব ইনশাহ আল্লাহ। আমরাও সতর্ক ছিলাম। আমাদের সামনে বড় টেস্ট রয়েছে। ওই নির্বাচন করেই সন্তুষ্টি প্রকাশ করব।”
নির্বাচন কমিশন এখন আর আগেই মতো নেই মন্তব্য করে সিইসি বলেন, ইসির বিভিন্ন পর্যায়ে এখন উন্নতি হয়েছে। জনগণও বেশ সজাগ।
তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিটি অভিযোগই আমলে আনা হয়েছে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
ইসির সম্মেলন কক্ষে এই ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ, মো. শাহনেওয়াজ, ইসির অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম, যুগ্মসচিব জেসমিন টুলী উপস্থিত ছিলেন।
এ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে গত মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করা চার আওয়ামী লীগ নেতা পরাজিত হয়েছেন ১৬ থেকে ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। সিলেটে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী, বরিশালে আহসান হাবিব কামাল, রাজশাহীতে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
রাতে ফল ঘোষণার পরপরই চার শহরে বিজয়ী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা উল্লাসে মেতে ওঠেন। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণও করা হয়।
রাজশাহীতে পরাজিত প্রার্থীর উত্তেজিত সমর্থকরা মিছিলের চেষ্টা করলেও তৎপর র্যাব সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। তবে বাকি তিন শহরে ফল ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন দলের ‘হতাশ’ নেতাকর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি।

জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘তৃতীয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্মারক বক্তৃতা-২০১৩’ দেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান / ছবি: প্রথম আলো
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গতকাল বিএনপির সমাবেশে বক্তৃতা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর / ছবি: প্রথম আলো