ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 0
খারাপউত্তম 

তৌহিদা শিরোপা

প্রসূন আজাদ, সামিয়া সাইদ ও সামিহা হোসেন

ছবি: খালেদ সরকার

তিন কন্যার ঘরে বৃহস্পতি তখন তুঙ্গে। সেরা দশে আসার পর তাঁরা পাশের ঘরে আর ঢুঁ মারেন না। কেননা, পাশের ঘর থেকে ধীরে ধীরে সবাই বাদ পড়তে থাকেন। শনির দশা যদি তাঁদের ঘরেও ভর করে! সেরা ছয়-এ আসার পর প্রথম তাঁদের রুমমেট জেবিন বাদ পড়েন। চলে গেল তিন কন্যার চোখের ঘুম! এবার কার পালা? কিন্তু সব শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে তিন কন্যা জয় করলেন সেরা তিনের খেতাব। বাস্তবের এই তিন কন্যা হলেন: লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০১২ সামিয়া সাইদ, প্রথম রানারআপ প্রসূন আজাদ ও দ্বিতীয় রানারআপ সামিহা হোসেন খান।
রূপকথার রাজকন্যাদের মতোই এখন দিন কাটছে তাঁদের। স্বপ্নের ঘোরলাগা মুহূর্তে গত শনিবার ঢাকার গুলশানের আমাজন ক্লাবে কথা হয় তাঁদের সঙ্গে। একটু খুনসুটি, পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়া দেখে বোঝা যায়, কয়েক মাসে বন্ধুত্বটা ভালোই জমেছে। সামিয়া ও সামিহা—দুজনের নাম যেমন কাছাকাছি, মাস এক না হলেও জন্মতারিখ ১৬। অনার্সের বিষয়ও একই। অর্থনীতিতে সামিয়া পড়ছেন ঢাকার নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে আর সামিহা ইউব্যাট ইউনিভার্সিটিতে। এটি নিয়ে সামিয়ার একটু আফসোস, ‘ও যদি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত! কত মজা হতো। সামিহার বড় বোন অবশ্য আমার বিভাগের বড় আপু।’ প্রসূন আগামী বছর এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন। ক্লাসে ছোট হলেও প্রসূনের সঙ্গে বন্ধুত্বে কমতি নেই। ‘আমার দেখা সবচেয়ে ভালো মেয়ে হচ্ছে সামিয়া। যখন আমার নাম ঘোষণা করল, সে সময় সামিয়াকে জড়িয়ে ধরে কানে কানে বলেছি, তুই প্রথম হবি। চিন্তা করিস না। প্রথম-দ্বিতীয় হলে কী করব আমরা, প্রায়ই রুমে সেটা অভিনয় করতাম। সত্যি হতে পেরে কেমন লাগছে বোঝাতে পারব না। মনে হয়েছে চারপাশটা যেন হঠাৎ বদলে গেছে।’ প্রসূনের এই কথার সঙ্গে একমত অন্য দুজনও। সামিয়া বলেন, ‘গত চার মাসে আমরা পরিবারের মতো হয়ে গেছি। ফলাফল কী হবে, সেসব নিয়ে আগে চিন্তা করিনি। ভেবেছি আত্মোন্নয়ন যেন করতে পারি। আমি অনেক অলস প্রকৃতির মেয়ে। ঘুমাতে কী যে পছন্দ করি! মা না থাকলে কিছুই হতো না আসলে। বাবা জাহাজের ক্যাপ্টেন। ফলে সবকিছুই মা ও ছোট দুই ভাইয়ের সঙ্গে শেয়ার করি। আমি চাই ভালো মানের কাজ করতে।’
সামিহার পুরো ছেলেবেলা কেটেছে শিলিগুড়িতে। ট্রেকিং, হাইকিং এসব করতে পারদর্শী এই মেয়ে। ‘তৃতীয় শ্রেণী থেকে এ লেভেল পর্যন্ত শিলিগুড়ির স্কুলে থেকে লেখাপড়া করেছি। আমার অভিনয় ছাড়া স্কুলের কোনো অনুষ্ঠান পূর্ণতা পেত না। ধ্যান-জ্ঞানে শুধুই অভিনয়। বাংলাদেশে অভিনয়ে আমার আদর্শ হচ্ছেন আফসানা মিমি, তারিন। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার ভীষণ ইচ্ছা আমার।’ প্রসূন সুচিত্রা সেনের মতো কালজয়ী নায়িকা হতে চান। যাতে যুগ যুগ ধরে সবাই তাঁকে মনে রাখে। ‘শুধু ক্যামেরার সামনে নয়, পেছনেও কাজ করার ইচ্ছা আছে। গিয়াসউদ্দীন সেলিমের সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছি। অবসর পেলেই ছবি তুলতে শুরু করি,’ বলেন প্রসূন। এর মধ্যে ঘটে গেছে দুর্ঘটনাও। যুগ্ম নাচে তাঁর সহকারী শিল্পী তাঁকে ফেলে দেন। তাতে মাথা ফেটে রক্ত পড়তে থাকে। ‘আজ আমি এ পর্যন্ত আসার পেছনে পরিবারের বাইরে দুজনের কথা বলতে হবে। আমার বান্ধবী নদী। সে-ই আমাকে না জানিয়ে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারে আমার হয়ে নিবন্ধন করে। সেরা ৪০-এ আসার পর আমি বাড়িতে জানিয়েছি। আর এখানে আসার পর জেবিন ভীষণ অনুপ্রেরণা দিত। ও বাদ পড়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম আমরা।’ বই পড়তে তিন কন্যাই পছন্দ করেন। সামিয়া তো সিনেমাপাগল। ঢাকার বসুন্ধরা সিটির সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত সব সিনেমাই তাঁর দেখা। এমনকি এসব সিনেমার টিকিটও রেখে দিয়েছেন। সামিয়া, প্রসূন ও সামিহা—এখন শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান।
এই অর্জন তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে পারবেন। (The Daily Prothom Alo / 13 Sept.)