সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বর্তমানে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাত হাজার ২২০ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে ছয় হাজার ৩০৪ সেনাসদস্য, ৪০৭ নৌবাহিনীর এবং ৫০৯ বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। মিশনে সর্বাধিক ২ হাজার ৫৫৬ জন রয়েছে কঙ্গোতে।
সোমবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন সংসদ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনামন্ত্রী একে খন্দকার।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘ শান্তি মিশনে লাইবেরিয়ায় এক হাজার ৪০৫, আইভেরি কোস্টে দুই হাজার ১৮২, দক্ষিণ সুদানে ২৯০, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে দুই হাজার ৫৫৬, সুদানে (দারফুর) ৪১৩, পূর্ব তিমুরে তিন, পশ্চিম সাহারায় ২৯, লেবাননে ৩২৪ এবং সিরিয়ায় ১৮ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য পাঠানোর সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। জাতিসংঘের নির্দিষ্ট প্রস্তাব ও আমন্ত্রণের ভিত্তিতে তিন বাহিনীতে যৌক্তিক ও আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। তিনি জানান, জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা ও অন্যান্য যোগ্যতার (শিক্ষা, বয়স, ভাষা, শারীরিক যোগ্যতা, জেষ্ঠ্যতা এবং শৃঙ্খলার মান) ভিত্তিতে বাহিনীগুলো স্ব স্ব বাহিনীর সদস্যদের মনোনীত করে। তিন বাহিনীর মনোনীত সদস্যদের নাম সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পাঠানো হয়। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এগুলো যাচাই করে জাতিসংঘ সদর দফতরে পাঠায়। জাতিসংঘ উপযুক্তদের চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে আদেশ জারি করে।
বিএনপির অনুপস্থিত সংসদ সদস্য জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নৌবাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ আধুনিকায়নের পদক্ষেপ হিসাবে সমুদ্রসীমা পাহারারত নৌবাহিনীতে হেলিকপ্টার ও নতুন জাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া দুইটি ‘অফ দ্য শেল’ ফ্রিগেট ক্রয়ের চুক্তি শীঘ্রই স্বাক্ষরিত হবে। ‘বানৌজা বিজয়’ ও ‘বানৌজা ধলেশ্বরী’ নামে দুটি যুদ্ধজাহাজ এবং ‘বানৌজা অনুসন্ধান’ নামে একটি জরিপ জাহাজ কেনা হয়েছে। (The Daily Janakantha / 26 June)