আওয়ামী লীগের এখন উচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন শুরু করা। আর বিএনপি বোধ হয় এখন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চাওয়াটা অন্তরে রাখবে না, মুখে যদি বলেও যেতে থাকে। দেশের চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চারজন গদিনশিন মেয়রের ভরাডুবির পর এটাই হওয়া উচিত দুই দলের কৌশল।
সব সময় বলা হয়ে থাকে, জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করে না। এ কথা এবারের সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই ভোট জনগণ দিয়েছে, ভোটাররা দিয়েছে। জনগণ সরকারের ও সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে মহাবিরক্ত, গত সাড়ে চারটা বছর ধরে একটু একটু করে তাদের মনে ক্ষোভ জমেছে; সেই ক্ষোভ, বঞ্চনা, অপমান, বেদনার প্রতিশোধ তারা নিয়েছে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে, যেখানে প্রত্যেক ভোটার একা, কেবল তার বিবেক তার সামনে। কী ছিল জনতার মনে, এটা এখন সবাই জেনে গেছে, এটা এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।
আমি এর আগে এই কলামে লিখেছি, এই দেশের ভোটারদের মন সাদা কাগজের মতো পরিষ্কার। তুমি আমাকে সুশাসন দাও, আমি তোমাকে ভোট দেব, যদি দিতে না পারো, তোমাকে আমি ভোট দেব না। সেখানে ‘দেশ থেকে বিসমিল্লাহ উঠে যাবে’ বলেও পরাজয় ঠেকানো যায় না, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে কিছু থাকবে না’ বলেও ভোট টানা যায় না। আপনি দুর্নীতি করবেন, সন্ত্রাস করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, হরিলুট করবেন আর আমাকে শোনাবেন ধর্মের দোহাই, অথবা আমাকে বলবেন মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষার কথা, আমি তো তা শুনব না। দেশের মানুষ এত বোকা নয়। দেশের মানুষ ক্ষমতা কাউকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে দেয়নি।
১৯৯১ সাল থেকে দেখা যাচ্ছে, দেশের মানুষ ভোট দেয় একবার এই দলকে, আরেকবার ওই দলকে। বলা যায়, একবার ‘এ’ দলকে, আরেকবার ‘বি’ দলকে। ভোটারদের অবস্থা টেবিল টেনিস বলের মতো, কোনো দলই তাকে তার কাছে রাখে না, পিটিয়ে জাল পার করে দেয়, আর জনগণ মার খেয়ে খেয়ে একবার এই দলের কাছে, আরেকবার ওই দলের কাছে গিয়ে তার ভোটটি দিয়ে আসে। ভালোবেসে দেয় না, সর্বশেষ ক্ষমতাসীন দল বা জোটকে বর্জন করার জন্য দেয়, তাদের একটা শিক্ষা দেওয়ার জন্য দেয়। আর যারা যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন তাদের হম্বিতম্বি কে দেখে। মনে হয়, তারা ৫০ বছরেও ক্ষমতা ছাড়বে না। ত্যক্ত-বিরক্ত জনগণ বলে, আসুক, ভোটের দিন, দেখা যাবে। এই গোঁ ধরেই লোকে সাড়ে চার বছর আগে বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল, এমনই সেই ভোট-বিপ্লব, নৌকা মার্কা দেখলেই লোকে ভোট দিয়েছে, বলা হয়, নৌকা মার্কা নিয়ে কলাগাছ দাঁড়ালেও গতবার জিতে যেত। জনগণের ওই এককাট্টা হওয়ার পেছনে আরেকটা কারণ ছিল। তা হলো, তাদের এক দিনের রাজা হওয়ার সুযোগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিএনপি বড় টালবাহানা করছিল। একবার তাদের পছন্দের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা, শেষে তো নিজেদের রাষ্ট্রপতিকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করে দেওয়া—কী সব কাণ্ডকীর্তি। শেষে মানুষের ভোট দেওয়ার সুযোগ এল দুটি বছরের অপেক্ষার শেষে। মানুষ দলে দলে গেল ভোটকেন্দ্রে আর মহাজোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিল তিন-চতুর্থাংশ। ভোট দেওয়ার রীতি বি-এ, বি-এ। এবার বি-এর পালা। আওয়ামী জোট কি এই ধারাটাকে ভাঙতে পারবে? খুব ভালো শাসন দিলে পারা যেত না, আমার তা মনে হয় না। এবং দেশটাকে সত্যিকারভাবে পাল্টে দেওয়ার এক মহাসুযোগ মহাজোটের সামনে এসেছিল। সেই প্রতিজ্ঞা নিয়েই যেন সরকার চলতেও শুরু করেছিল। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই জনগণ বুঝে গেছে, একটা দেশ কত খারাপভাবে চালানো যেতে পারে, আগের বারের জোট সরকারের সঙ্গে এবারের মহাজোট সরকার সেই প্রতিযোগিতায় যেন নেমেছে। শেয়ার মার্কেটে ধস নামল, লাখ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পথে বসল, সরকার ঘটনা তদন্তে যে কমিটি করে দিল, তারা যাদের প্রতি অভিযোগের তর্জনী তুললেন, তারা সবাই সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠজন। সেই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সেই রুই-কাতলাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে? কোনো প্রয়োজন ছিল না, অথবা কী প্রয়োজন ছিল, কেবল সরকারই বলতে পারবে, তারা লাগল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনও এই দেশে পাত্তা পায় না, আমরা এমন শক্তিশালী? তারেক মাসুদ ও আশফাক মুনীর যখন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন, তখন এই পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় এই খুদে লেখক আরজি জানিয়েছিল, যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন যেন পদত্যাগ করেন। সেই পদত্যাগ তাঁকে করতেই হলো, দুর্নীতির অভিযোগ মাথায় নিয়ে আর সেই অভিযোগকারী আর কেউ নয়, স্বয়ং বিশ্বব্যাংক। ছোটবেলা থেকে একটা কৌতুক শুনে এসেছি, হাটের মধ্যে জুতা দিয়ে পিটিয়েছে, এর পরেও বলেছে, কথা না শুনলে আগামীকাল অপমান করবে। আর কী ঘটলে আমরা বলব, আমাদের অপমান করেছে? মন্ত্রীর পিএসের গাড়ি থেকে টাকার বস্তা উদ্ধার হয়। ছাত্রলীগের ছেলেরা প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষকে চাপাতি দিয়ে কোপায়, আর সেই দৃশ্য হরর মুভির মতো দেখানো হয় টেলিভিশনের খবরে। হাঁড়ি-পাতিলের ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে তুলে নিয়ে যান তিন হাজার কোটি টাকা আর আমাদের মন্ত্রী বলেন, রাবিশ, এটা কোনো টাকা হলো? ডেসটিনির লাখো গ্রাহক হঠাৎ করে পথে বসে পড়ে। এমপি এলাকায় যেতে পারেন না, তিনি অনেক লোকের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছেন চাকরি দেবেন বলে, চাকরি দেননি, এখন টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না। এমপিরা এলাকায় মুখ দেখাতে পারেন না, তাঁদের মেয়র পদপ্রার্থীরা ভোট পাবেন? সীমান্তে গুলি বন্ধ হয়নি, তারকাঁটায় ঝুলে থাকে রঙিন জামা পরা ফেলানি, তিস্তার পানি পাওয়া যাবে, এই লক্ষণ নেই।
এই অবস্থায় দেশের মানুষ সাড়ে ছয় বছর আগের কথা ভুলে গেছে। এই দেশের মানুষ মোটামুটি তিন বছর আগের কথা মনে করতে পারে, বড় বছর পাঁচ বছর আগের কথা। তার আগে কী ঘটেছিল মনে রাখা খুব মুশকিল। এই সরকারের জন্য আরেকটা দুর্ভাগ্য যে বিএনপি জোট ক্ষমতায় ছিল সাড়ে ছয় বছর আগে, মাঝখানের দুটো বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল দেশে। অত আগে কী ঘটেছিল মনে রাখা সম্ভব? শেখ হাসিনার জনসভায় বোমা মারা হয়েছিল, এবং যারা মেরেছে, তারা আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছিল মন্ত্রীর কাছ থেকে, জবানবন্দি থেকে আমরা জানি। সিঙ্গাপুরে পাচার হয়েছিল দুর্নীতি করে আয় করা টাকা, বিদেশে তার বিচার হচ্ছে। জেএমবি নামের এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছিল, সারা দেশে একযোগে বোমা হামলা হয়েছে আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলা ভাই গণমাধ্যমের তৈরি। কম দুঃখে মানুষ ভোটকেন্দ্রে ছুটে গিয়ে তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেয়নি মহাজোটকে। হাওয়া ভবন নামের এক বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি হয়েছিল, বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে যেতে হয়েছে অনেক অপমান নিয়ে, তারপর ধাওয়া খেয়ে মহাখালীর মোড় থেকে দৌড়াতে হয়েছে রেললাইনের দিকে। রাজশাহীর অধ্যাপক ইউনুস কিংবা চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ মুহুরি নিহত হয়েছেন নৃশংসভাবে।
কিন্তু আজকের ভোটার তার আজকের বেদনা নিয়ে জর্জরিত। সাড়ে ৬ বছর কি ১০ বছর আগে বিএনপির জোট কী দুঃশাসন তাকে দিয়েছিল, সেটা তার মনে করার অবকাশ কোথায়? কাজেই এই মুহূর্তে যদি ভোট হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ ও তার জোট যে শোচনীয়ভাবে হেরে যাবে, তা মেয়র নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট।
এই সরকার একটা কাজ খুব ভালো করেছে। এই নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টা করেনি। নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিয়েছে। বিএনপি আমলে আমরা দেখেছি, মেয়র নির্বাচনের ফল পাল্টানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অনেকেই তো বলেন, রাজশাহীতে ফজলে হোসেন বাদশার কাছে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু আসলে হেরেই গিয়েছিলেন, ভোট গণনার সময় এটা পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। চট্টগ্রামে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিজয়ও অনেকক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিংবা আমাদের মনে আছে, একটা উপনির্বাচনে বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন ফালুর পক্ষে কীভাবে প্রকাশ্যে সিল মারা হয়েছিল, আর তার ছবি পরের দিন খবরের কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার সে ধরনের কোনো অপচেষ্টা করেনি। ভোটাররা ভোট দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন ভোট নিয়েছে, গুনেছে,
ফল প্রকাশ করেছে। আরও ভালো দৃশ্য, পরাজিত মেয়র পদপ্রার্থীরা বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মিষ্টি খাইয়েছেন, অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই দৃশ্য দেখে মনের মধ্যে কী যে একটা প্রশান্তির বাতাস লাগল!
চার মহানগরের নির্বাচনের ফল এর চেয়ে ভালো আর কিছুই হতে পারত না! যদি একটা সিটিতেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করতেন, তাহলে বলা হতো, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এখন আর এ কথা বলার সুযোগ বিএনপির থাকল না।
আর বিএনপি বুঝে গেছে, এবার তাদের পালা। যেকোনো প্রকারে একটা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেই তারা জয়লাভ করবে। জনগণের রায় আসলে পাল্টানো যায় না। কাজেই আমাদের যে প্রধান দুশ্চিন্তা ছিল, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে একটা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ-সংঘাত অনিবার্য, তার সম্ভাবনা তিরোহিত হয়ে গেছে এই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মাধ্যমে। বিএনপির উচিত শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হলে তার অধীনে নির্বাচনে যাওয়া। আমাদের সুবিধাবাদী প্রশাসন হাওয়া যেদিকে সেদিকেই ঝুঁকে পড়বে। নির্বাচনে ভোট আমেরিকা দেবে না, ভারত দেবে না, পাকিস্তান দেবে না, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন দেবে না, দেবে জনগণ। সেই ভোটের ফল পাল্টানো যাবে না। কাজেই আগামী ছয় মাসে আওয়ামী লীগ যদি কোনো জাদুর কাঠি পেয়ে না যায়, তাহলে পরের সরকার যে বিএনপির জোট গঠন করছে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই।
সেই সরকার কি জনপ্রিয় হবে? কোনোই কারণ নেই। এই সরকার ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মধ্যে চট্টগ্রামে মেয়র নির্বাচনে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী হেরে গেছেন। যদি আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জোট ক্ষমতায় আসে, তারা এক বছরের মধ্যেই জনপ্রিয়তা হারাতে থাকবে। সাত বছর আগে যিনি দুর্নীতিবাজ ছিলেন, এবার ক্ষমতায় এসে তিনি সুনীতিসুন্দর হয়ে উঠবেন, পৃথিবীর ইতিহাসে তা ঘটেনি। কাজেই ২০১৯-এর নির্বাচনে দেশের মানুষ আবার বিএনপি জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করে আওয়ামী জোটকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবে। কিন্তু তখন তো আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে না। আর বিএনপির নব্য নেতৃত্ব কেন ক্ষমতা ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগের হাতে। তারা এমন ব্যবস্থা করবে, যাতে আদৌ ভোটই না হয়। সেটা যাতে তারা করতে না পারে, সে জন্য বর্তমান আওয়ামী লীগের উচিত এখন থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা করে রাখা। সেটা হতে পারে উচ্চ আদালতের আদেশের আলোকেই, পরবর্তী দুটো নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। সেই ব্যবস্থাটা ক্ষমতায় থাকতে থাকতেই আওয়ামী লীগ পাকাপোক্ত করে রাখুক।
আমার কথা শুনে অনেকেই হতাশ হতে পারেন। তাহলে কী হবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবির? কী হবে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের? কী হবে চার নেতা হত্যার বিচারকাণ্ডের? কী হবে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার? কী হবে হেফাজতের দাবিদাওয়ার, নারীরা কি তাহলে আর কর্মক্ষেত্রে যেতে পারবেন না?
এর কোনো জবাব আমার কাছে নেই। দুটো সান্ত্বনা দিতে পারি। এক. আগামী পাঁচ মাসে আওয়ামী লীগের সরকার খুব ভালোভাবে দেশ চালাক। এমন কিছু করুক, যাতে তারা জনচিত্ত জয় করতে পারে। নির্বাচনে তারা মানুষের ভোট আকর্ষণ করুক এবং জনগণের ভোটে জয়লাভ করুক। দুই. বিএনপি জোট এর আগেও দেশ চালিয়েছে। এই দেশে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধিতে তাদের অবদান আছে, তারা ছাত্রীবৃত্তির প্রচলন করেছিল। কাজেই বিএনপি ক্ষমতায় এলেই দেশটা হেফাজতের দেশ হয়ে যাবে, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
এর বাইরে আর কোনো সমাধান তো দেখি না। নির্বাচন একতরফা করা, কিংবা কৌশলে জনপ্রিয় একটা রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষমতার বাইরে রাখা মিসরে ও আলজেরিয়ায় সুফল বয়ে আনেনি। গণতন্ত্রের আরও চর্চাই একমাত্র সমাধান। গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমেই দেশ একদিন দাঁড়িয়ে যাবে, বৈষম্য কমবে, শিক্ষার হার বাড়বে, দেশ থেকে দূর হবে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, কূপমণ্ডূকতার অন্ধকার, এই আশা আমরা ছাড়ব কেন?
আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।(The Daily Prothom Alo / 18 June)
